সব সংবাদ
জাতীয়

গৃহকর্মী নির্যাতন: মানবাধিকার কর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে নির্যাতনের মামলায় মানবাধিকার কর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ২০১৮ সালে ১৪ বছর বয়সি হাওয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।

আট বছর আগে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে নির্যাতনের মামলায় মানবাধিকার কর্মী মোস্তাকিন শরীফ এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ১৪ বছর বয়সি হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ হাওয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে গৃহকর্মী হিসেবে ওই বাসায় কাজ করত। কাজের ত্রুটির অজুহাতে তাকে সব সময় গালি-গালাজ, লোহার খুন্তি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিত। হাওয়াকে একজন ধরত, আরেকজন মারত। সে কান্নাকাটি করলে তারা হাসাহাসি করতো। হাওয়াকে তার পরিবার বা স্বজনদের সাথে দেখা করতে দিত না।

এ ঘটনায় খিলগাঁও থানার তৎকালীন এসআই সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ৩১ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের ২২ অক্টোবর দুই জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি, রড গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর পোড়া, জখম, গ্যাসের চুলার আগুনে চুল পুড়িয়ে দিত। গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে জখম করে সেখানে মরিচের গুড়া দিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি তথা তাকে বিভিন্নভাবে অমানবিক, অকল্পনীয়ভাবে সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে তার স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে।

২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে এদিন সাজার রায় এল।