উজানের ঢলে ফুঁসছে তিস্তা, পানি বিপৎসীমার ৭ সেমি ওপরে
ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে।
ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদী আবারও ফুঁসে উঠেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। এতে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টেও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে পানি বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশে তিস্তায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাউবো কর্মকর্তা জানান, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেইট খুলে রাখা হয়েছে এবং নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার; যা অতিক্রম করে এখন ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটারে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবারও পানি একবার বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল।
লালমনিরহাটে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দূর্না গ্রামের বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শুষ্ক মৌসুমে পাউবো বাঁধ সংস্কারের টেকসই কাজ না করে বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়। ফলে প্রতি বছরই তাদের ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকতে হয়। প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।