সব সংবাদ
অর্থনীতি

ধনপোতার কাঠের কলম: দেড় টাকার স্বপ্ন থেকে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে

বাগেরহাটের ফকিরহাটে একটি পরিবার মাত্র দেড় টাকা পুঁজি দিয়ে কাঠের কলম তৈরি শুরু করেছিল ১৯৯৪ সালে। তিন দশকেরও বেশি সময়ে সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ এখন মাসে প্রায় ৬ হাজার কলম উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে রপ্তানি হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ধনপোতা গ্রামে প্রায় ৩০ বছর আগে একটি পরিবার মাত্র দেড় টাকা পুঁজি নিয়ে কাঠের কলম তৈরির কাজ শুরু করেছিল। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ আজ 'মিথুন কুঠির শিল্প' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। শুরুতে বাঁশ দিয়ে কলম তৈরি করলেও বর্তমানে তারা মেহগনি কাঠ ব্যবহার করে নান্দনিক ও টেকসই কলম তৈরি করছেন। দুই ভাই অসিত পাল ও অরুণ পাল এবং তাদের পরিবারের ৭ থেকে ৮ জন সদস্য এই কুটির শিল্প পরিচালনা করছেন। ১৯৯৪ সালে অশোক পাল মাত্র দেড় টাকায় একটি শিষ ও শিরিস কাগজ কিনে প্রথম কলম তৈরি শুরু করেন। প্রথমে বাজারজাত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শহরে ঘুরেছেন এবং লোকজ মেলায় পথের ধারে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তাদের দুটি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬ হাজার কলম উৎপাদন হয়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করে তারা এবং একটি কলম তৈরিতে প্রায় ৩৬টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতি ১ হাজার কলমে প্রায় ২০০টি উৎপাদনজনিত ত্রুটিতে বাতিল হয়ে যায়। পাইকারি পর্যায়ে প্রতিটি কলম ১৬ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এই কাঠের কলম যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে রপ্তানি হচ্ছে এবং সেখানে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। তবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়া সত্ত্বেও পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়। মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্র্যান্ড ও শোরুমে পৌঁছে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে। শীতপ্রধান দেশে কিছু ধরনের শিষের কালি জমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। তারা সরকারি বা বিসিকের কারিগরি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং সরাসরি রপ্তানির সুযোগ পেলে এই কুটির শিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে জানান। ফকিরহাট কাজি আজহার আলি কলেজের শিক্ষক আবু সাঈদ মল্লিক বলেন, এই কাঠের কলম পরিবেশ বান্ধব এবং প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে সক্ষম হবে।