ঢাবি শহীদুল্লাহ হলে মেয়ে নিয়ে খেলা দেখতে এসে হেনস্তার শিকার ৬ সাবেক শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে গিয়ে হল ছাত্র সংসদের এক নেতার হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ৬ জন সাবেক শিক্ষার্থী। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাঙ্গিত সাজু মিয়া নামের ওই ছাত্র নেতা তাদের সঙ্গে থাকা এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে উগ্র আচরণ করেন এবং হল থেকে বের করে দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল মাঠে গত ২৭ জুন শুক্রবার রাতে ফ্রান্স বনাম নরওয়ের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে গিয়ে হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদকের হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক ছয় শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় জড়িত সাজু মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। অভিযোগকারী মুহতাসিন বিল্লাহ ইমন তার ফেইসবুক পোস্টে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, তারা নিয়মানুযায়ী হলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লিখিয়ে প্রবেশ করেন এবং খেলা দেখতে বসেন। তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক নারী শিক্ষার্থী ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে জানা যায় একজন সাবেক শিক্ষার্থীর স্ত্রী। হঠাৎ করে চারজন শিক্ষার্থী এসে তাদের জিজ্ঞেস করে তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী কিনা। তারা জানান, তারা ১৬-১৭, ১৭-১৮ ও ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। এরপর ওই গ্রুপের একজন বলে, কোন লজিকে একটা মেয়ে নিয়ে বয়েজ হলে খেলা দেখতে আসছেন? এরপর আরও ৮-৯ জন এসে তাদের ঘিরে ধরে চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। সাজু মিয়া নিজেকে হলের সমাজসেবা সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলে, হলের ছেলেপেলেরা যদি তাদের ছবি তুলে গালিগালাজ করে সেটা কি ভালো হবে? শেষ পর্যন্ত সাজু মিয়া উচ্চস্বরে বলে উঠে, এখানে মেয়ে নিয়ে থাকা যাবে না। তখন শাওন নামের একজন বলে, যাকে মেয়ে বলছ সে আমার স্ত্রী। এরপর তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগকারী ইমন বলেন, তারা এই হ্যারাসমেন্টের বিচার চান এবং ক্যাম্পাসে মববাজির অবসান চান। সাজু মিয়া অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা শান্তভাবে চলে যেতে বলেছেন, কিন্তু তারা উল্টো রেগে গেছে। মেয়ে নিয়ে কোনো কথা বলেননি বলে দাবি করেছেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল মারুফও হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটা সিনিয়র-জুনিয়রদের কথা কাটাকাটি, এখানে কোনো নারী হেনস্তা হয়নি। এই ঘটনায় সুফিয়া কামাল হল সংসদ, ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে। সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে শহীদুল্লাহ হলের খেলার মাঠে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করে এবং প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর একজন সহকারী প্রক্টরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।