সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভয়ংকর দুই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১৪৩০ ছাড়িয়ে গেছে

ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। লা গুয়াইরা বন্দর ও কারাকাসের কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসাত্মক দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার পর্যন্ত অফিসিয়ালভাবে নিহতের সংখ্যা ১৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো দেশটিতে প্রবেশ করছে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বন্দর শহর লা গুয়াইরা ও রাজধানী কারাকাসের কিছু অংশে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। পরিবারগুলো ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই এলাকাগুলোয় চার দিন ধরে জীবিতদের ও মৃতদেহ উদ্ধার করে চলছেন। তারা প্রায়ই ভারী সরঞ্জামের অপ্রতুলতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সীমিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করছেন।

এ পর্যন্ত ১৬০০ জনেরও বেশি বিদেশি উদ্ধারকারী এসেছেন এবং আরও অনেকগুলো দল পথে আছে। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার আগে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়। উত্তরাঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল ভূমিকম্প দুটির পর থেকে কয়েকশ পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তবে দেশটির বিরোধীদলীয় ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) হিসাবে শক্তিশালী ওই দুই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ লা গুয়াইরায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে এবং কারাকাস থেকে আসা প্রধান সড়কটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পুরো অঞ্চল বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।