সব সংবাদ
জাতীয়

কিশোরগঞ্জে জমি সংকট: একই পরিবারের উপর হামলা, চারজন গুরুতর আহত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে এবং দুই নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নিয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ঘটনায় একই পরিবারের বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ৩১ মে বিকেলে উপজেলার কাহেৎধান্দুল গ্রামে ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মোন্তাজ উদ্দীনের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এর জেরে ওই দিন বিকেলে অভিযুক্ত মোন্তাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে ৫-৬ জন লাঠিসোঠা, রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আম্বিয়া খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। আম্বিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তার উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়, যার ফলে সোহেল গুরুতর জখম হন।

সোহেলকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আম্বিয়া খাতুন, তার স্বামী রমজান আলী, অপর ছেলে হৃদয়, শাহজাহান এবং শাহজাহানের স্ত্রী ফারজানাকেও হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আম্বিয়া খাতুন ও ফারজানাকে টেনে-হেঁচড়ে তাদের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এসময় অভিযুক্ত লিমা আম্বিয়ার গলা থেকে আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং মাসুম ফারজানার গলা থেকে আরেকটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়।

ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে হৃদয় ও রমজান আলীকে ভর্তি করা হয়। সোহেল মিয়ার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে কিশোরগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুন বাদি হয়ে ৪ জুন পাকুন্দিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি, যা ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।