সব সংবাদ
জাতীয়

লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সরকার: জোনায়েদ সাকি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি অর্থ লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুর রহিম মোহাম্মদ জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অতীতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে যে লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে 'স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)' প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন ২০২৬) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিটা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আক্তারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আইএমইডি সচিব সিরাজুন নুর, বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট অথরিটির সিইও (সচিব) মো. মইনুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের তথ্য উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব নাজমুল আলম। এসময় জোনায়েদ সাকি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ সম্ভব হলে রাজস্ব সংগ্রহও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। সিটা প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়কে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার নির্ভুল হিসাব ও কার্যকর নিরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অপচয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার লাগামহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।