সব সংবাদ
জাতীয়

বজ্রপাতের মৃত্যু ফাঁদে বাংলাদেশ: ১২ বছরে প্রায় ৪ হাজার প্রাণহানি

গত এক দশকে বাংলাদেশে বজ্রপাতে ৩ হাজার ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাওরাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষত সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বার্ষিক ১০৩টি বজ্রপাত হয়।

আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসে বাংলাদেশে এই দুর্যোগের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গত ১২ বছরে দেশে বজ্রপাতে মোট ৩ হাজার ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বছরে গড়ে ৩০০-৩৫০ জন। ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরাঞ্চল— নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বার্ষিক ১০৩টি বজ্রপাত হয়, যা দেশের সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বছরে গড়ে ৮২.৪৪টি বজ্রপাত ঘটে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ২২৬ জন, ২০১৯ সালে ৪০১ জন, ২০২০ সালে ৪২৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২৭১ জন মানুষ মারা যান। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে (৩৮%)। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষা মৌসুমেও বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ১-৪ ঘণ্টা আগে পূর্বাভাস দিতে পারলেও মাঠপর্যায়ে সেই বার্তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। অনেক স্থানে বজ্রনিরোধক দণ্ড অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। সরকার ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় ৬ হাজার ৭০০ বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা ও ৩ হাজার ৫০০ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বজ্রপাত নিয়ে সমাজে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে, যা প্রাণহানি বাড়িয়ে দিচ্ছে।