রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলায় রোববার রায়
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় এক তরুণকে কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় গুলি করার ঘটনায় পাঁচ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা হবে রোববার। এই মামলায় তিনটি হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনের সময় রাজধানী ঢাকার রামপুরায় ঘটে একটি ভয়াবহ ঘটনা। আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিবর্ষণে এক তরুণ নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়, যা সারা দেশে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই ঘটনাসহ তিনটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় পাঁচ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী রোববার এই মামলায় রায় ঘোষণা করবে।
আসামি তালিকায় রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান, একই থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এদের মধ্যে শুধু চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, বাকি চারজন পলাতক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে মো. নাদিম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। একই দিন বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের গুলি ও ধাওয়া খেয়ে আমির হোসেন (১৮) নামে ওই তরুণ নির্মাধীন ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে পড়েন। পুলিশ তাকে নিচে লাফ দিতে বললে তরুণ সেটি না করায় পরপর ছয়টি গুলি করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় বনশ্রী এলাকায় মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাও গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।
গত ১৫ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের জন্য ২৮ জুন দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নতুন ডিজিটাল প্রমাণ জমা দেওয়ার আবেদন করা হলে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রসিকিউশন চঞ্চল চন্দ্র সরকারের একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা আদালত গ্রহণ করেন।