সব সংবাদ
জাতীয়

বাবুগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে ৩ জনকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

বাবুগঞ্জে একটি পরিবারকে গরু চোর আখ্যা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন করে পা ভেঙে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে পূর্ব ভূতেরদিয়া এলাকায় একটি গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পূর্ব ভূতেরদিয়ার শাহে আলম মৃধার ছেলে বুখাই মৃধা সম্প্রতি গ্রামের আলমগীর মলিকের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় আলমগীর মলিক বাবুগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ ছেলে ও মেয়ে দুজনকেই গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এরপর ২৬ জুন শুক্রবার সকালে দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি হয়, যেখানে মেয়ের চাচা মিজান মলিক আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর রাতে মিজান মলিক তার স্ত্রী লাইজু আক্তার ও ছেলে আজাদ মলিককে নিয়ে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব ভূতেরদিয়া সাইক্লোন সেন্টার এলাকায় পৌঁছলে শাহে আলম মৃধা ও তার লোকজন গাড়ির গতিরোধ করে। তারা মিজান মলিককে গরু চোর আখ্যা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে তার পা ভেঙে দেয় এবং তার স্ত্রী ও ছেলেকেও বেদম মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তিনজনকে একটি ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়। এই নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বাবুগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল হাওলাদারসহ নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তালাবদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয়ভাবে আগামী সপ্তাহে শালিস বৈঠকের দিন নির্ধারণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।