সব সংবাদ
রাজনীতি

৭০ ভাগ ভোটের রায় বাস্তবায়ন দাবি মামুনুল হকের

১১ দলীয় ঐক্য ময়মনসিংহ বিভাগের সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিএনপির ১৫ বছরের নেতৃত্বের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেছেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে ভোটের রায়ে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন চলবে।

ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে শনিবার বিকালে ১১ দলীয় ঐক্য ময়মনসিংহ বিভাগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এই সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বিএনপির ১৫ বছরের নেতৃত্বের তীক্ষ্ণ সমালোচনা করে বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের যুবকরা প্রাণ দিয়েছে, মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে আন্দোলনে, আল্লামা সাঈদীকে ঘিরে আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রক্তের সাগর পেরিয়ে ৫ আগস্ট বাংলার মানুষ নতুন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। যে পথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেই পথে যাবেন তারেক রহমানও। তিনি বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে গণভোটে এবং এই রায় শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার যদি সেটা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাঁরা রাজপথে নামবেন এবং মানুষের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরবেন।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মামুনুল হক অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলো যে সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছিল, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে তা নষ্ট করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাঁদের হারিয়েছে। তা না হলে তাঁরা ১৮০টি সিট নিয়ে সংসদে যেতেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিকে স্থিতিশীল করে এবং রাজনৈতিক সংঘাত-দুর্নীতি-বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তাঁরা নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন। আজ গণভোটের রায় কার্যকর না করলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চলবে।

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গণহত্যার ব্যাপারে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী চীন ও মালয়েশিয়া গিয়ে দেশের জন্য কি নিয়ে এসেছেন, দেশের মানুষকে তা জানাতে পারছেন না।