সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করলেন গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনার আগে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছেন। আলোচনা শুরুর আগে তিনি মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আলোচনা শুরুর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় এই শহীদদের আত্মত্যাগই তাদের পথ দেখাবে।

তিনি লেখেন, "মিনাবের নিষ্পাপ শিশুরা এবং ইরানের অন্যান্য শহীদ আমার প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তের নীরব সাক্ষী। আল্লাহ না করুন, আমি যেন কখনো তাদের এবং ইরানের জনগণের কাছে লজ্জিত না হই।" এ সময় তিনি 'মিনাব১৬৮' হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেন, যা ইরানে নিহতদের স্মরণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা। তিনি জানান, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তেহরান এবার অপর পক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

বাঘাই বলেন, "প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এবার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করব।"

স্পিকার গালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপমন্ত্রী আলী বাঘেরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির চেয়ারম্যান হামিদ বোর্দে এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা।

ইরানি প্রতিনিধিদল জুরিখে পৌঁছানোর পর সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের স্বাগত জানিয়েছে। সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠকের জন্য প্রতিনিধিদলটি বার্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসানের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতীতের অবিশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্নই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।