প্রধানমন্ত্রীর চীন-মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের বড় সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক 'অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়' পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং তিস্তা প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চীন সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক 'সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব' থেকে 'অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়' পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে '২+২ ডায়ালগ মেকানিজম' চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এর আওতায় বড় ও ছোট জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক, ৩টি চুক্তি, একটি প্রটোকল এবং একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা সই হয়েছে। এছাড়া বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে চীন সম্মত হয়েছে।
আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে কুনমিং থেকে বাংলাদেশের বন্দরগুলো পর্যন্ত মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন প্রস্তাবিত চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
মালয়েশিয়া সফরের অর্জনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে দুটি নোট বিনিময় করা হয়েছে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত শুরু এবং ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যেও দুই দেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
শ্রম খাতে সহযোগিতার বিষয়ে নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ অভিবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু, দক্ষ কর্মী পাঠানো, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আট হাজার বাংলাদেশি কর্মীর কাজে যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়া সক্রিয় ভূমিকা পালনের আশ্বাস দিয়েছে। আসিয়ান কাঠামোর আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সংকট সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নির্ধারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।