সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যাইনি, সম্পর্কে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কোনো সরকারপ্রধান ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায় না। এই সফরে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক 'সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব' থেকে উন্নীত হয়ে 'নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়' গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে আর্থিক সহায়তার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'উনি নগদ প্রাপ্তির কথা বললেন। ভাই, এ সমস্ত প্রশ্ন করবেন না, আমরা খুব বিব্রত হই। এখানে উনি ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যাননি।' তিনি আরও বলেন, 'কোনো দিন কোনো সরকারপ্রধান আরেক সরকারপ্রধানের সঙ্গে দিস্তা কাগজ নিয়ে, পেন্সিল নিয়ে বসে না, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায় না। একটু আত্মসম্মান রাখেন। আমরা অন্য জায়গায় পৌঁছে গেছি।'

বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। পরের দিন তিনি চীনের তালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বুধবার বিকালে তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছান এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সফর শেষে প্রকাশিত দুই দেশের ১৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, দুই দেশ তাদের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে 'নতুন যুগের চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়' গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহায়তা এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে 'টু প্লাস টু' কৌশলগত সংলাপ চালুর মত বিষয়ও যৌথ ঘোষণায় এসেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে সম্পর্ক ছিল 'কমপ্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ', এখন সেটা থেকে 'চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি অব শেয়ার্ড ফিউচারে' চলে গেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়। তিনি আরও বলেন, চীনের জিডিপি ২১ ট্রিলিয়ন ডলার, ফরেন রিজার্ভ সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলার। প্রত্যেক বছর তাদের ট্রেড সারপ্লাস এক ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির আকারটা, তাদের উদ্বৃত্ত বুঝার চেষ্টা করুন।

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, সেখানে বসেছিলেন অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, চীনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তারা এত বড় একটা ইকোনমি চালান, আপনি বুঝতে পারছেন যে, এতটুকু সময়, ঘন্টাখানেক সময় তারা আমাদেরকে দিয়েছেন সম্মিলিতভাবে। সুতরাং এই ভিজিটের সিগনিফিকেন্স আপনি শুধু এগুলো দেখলে বুঝবেন, আগের ভিজিটগুলোর তুলনায় এটা কমপ্লিটলি একটা ডিফারেন্ট ভিজিট।