বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে বরফ সংকট, সাগরে যেতে পারছেন না পটুয়াখালী-বরগুনার জেলেরা
সাগরে মাছ ধরার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ মৌসুম শুরু হলেও পটুয়াখালী ও বরগুনার জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বরফকলগুলোয় বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রয়োজনীয় বরফ পাচ্ছেন না জেলেরা। এতে মাছ সংরক্ষণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
দীর্ঘ ৫৮ দিনের সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে শুরু হয়েছে জেলেদের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মৌসুম। কিন্তু সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও ট্রলার নিয়ে বসে আছেন পটুয়াখালী ও বরগুনার অনেক জেলে। মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ পাচ্ছেন না তারা, যার কারণে সাগরে যেতে পারছেন না।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পটুয়াখালী ও বরগুনার বরফকলগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বরফকলের মালিকদের তথ্যমতে, বরফের একেকটি ব্লক উৎপাদনে টানা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। কিন্তু দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপরই লোডশেডিং হচ্ছে। এতে পানি ঠিকমতো জমাট বাঁধছে না এবং স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং বরফের মানও পড়ে যাচ্ছে।
বরফ সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় মৎস্যবন্দরগুলোয়। বরগুনার পাথরঘাটায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর এবং পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বরফের প্রয়োজন হয়। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বরফ পাওয়া যাচ্ছে।
পটুয়াখালী ও বরগুনা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুধু বরগুনার পাথরঘাটাতেই বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ৯০টি বরফকল রয়েছে। এ ছাড়া পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর এলাকায় আছে অন্তত ৪০টি বরফকল। বিদ্যুৎ সংকটে এসব কারখানার বেশির ভাগই পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
পাথরঘাটার এম ই আইস ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক মো. সোহাগ জানান, এখন বরফের চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং ইলিশ মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে চাহিদার ৩০ শতাংশ বরফও সরবরাহ করা যাচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পানি ঠিকমতো জমাট বাঁধে না, ফলে বরফ দ্রুত গলে যায়।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গাজী আইস প্ল্যান্টের মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী গাজী মজনু বলেন, বরফের সংকট এখন তীব্র এবং পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেটাও বলতে পারছি না।
জেলেরা জানান, একটি ট্রলার সাধারণত টানা সাত দিন বা তারও বেশি সময় সাগরে মাছ ধরে এবং ট্রলারের মাছ বরফে রাখা হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো বরফ জমাট বাঁধছে না, ফলে তা দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং মাছ নষ্ট হচ্ছে।
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে অপেক্ষমাণ ট্রলারের জেলে আফজাল হোসেন ও হাবিবুর রহমান জানান, বাজার-সদাইসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেও শুধু বরফের অভাবে তারা বসে আছেন এবং কবে বরফ পাবেন, তা নিশ্চিত নয়। বরফ ছাড়া সাগরে যাওয়া সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল কাসেম লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, তাদের তো কোনো লোডশেডিং নেই, তাই বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা নয়। তবে সরেজমিনে ঘুরে তার এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।