পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড সাড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ, গণনা চলছে
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা চলছে। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত রেকর্ড সাড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। ছয় মাস আগে প্রায় ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা এখনো চলছে। শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেখানে মিলেছে রেকর্ড সাড়ে ১২ কোটি টাকা। ছয় মাস আগের গণনায় মসজিদের ১৩ দানবাক্সে পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ১১ কোটি সাড়ে ৭৮ লাখ টাকা। সন্ধ্যা পর্যন্ত গণনা চলবে বলে মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এবার টাকার পরিমাণ ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পাগলা মসজিদ কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত গণনা করে রূপালী ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এখনো গণনার কাজ চলছে। সন্ধ্যায় জানা যাবে মোট কত টাকা হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
মসজিদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে যান। প্রতি ৪-৬ মাস পর পর জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এসব দানবাক্সে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালংকার।
এর আগে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। টাকা ছাড়াও এখানে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না ও হীরা।
গণনার কাজ করছেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ কর্মী। সেখানে আরও আছেন মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আরও প্রায় ৫০০ জন।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা নগদ ব্যাংকে জমাসহ অনলাইনের দানের আরও প্রায় ২৫ লাখের বেশি টাকা জমা আছে। এছাড়াও পাগলা মসজিদে জমা টাকার লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মসজিদটি গড়ে ওঠে। কথিত আছে, এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। সেজন্য দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান আধুনিক তুরস্কের বসফরাস প্রণালীর পাশে যে দৃষ্টিনন্দন মাল্টিপারপাস মসজিদ আছে, এর আদলে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।