বন্ধুর ডাকে গিয়ে খুন হলেন শিবির নেতা সাইফুল্লাহ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী (২৪) খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, স্কুল কমিটি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। কোনো রাজনৈতিক কারণ ছিল না। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয়, যার ফলে তিনটি নিরপরাধ পরিবারের বাড়িঘরও পুড়ে যায়।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) গত রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার চার মাথায় খুন হন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, ছিল না কোনো পূর্বশত্রুতাও। শিবিরকর্মী বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে গিয়েই সেদিন খুন হন তিনি। ঘটনার কিছুটা আগে বাড়িতে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন সাইফুল্লাহ। খাবার খাওয়া অবস্থা থেকে পাশের বাড়ির বন্ধু মোবাশ্বের তাকে ডেকে নিয়ে যান বোনারপাড়ার সাঘাটা উপজেলা চত্বরে। সেখানে স্কুল কমিটি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে যুবদল নেতাদের বিবাদের মধ্যে তিনি প্রধান শিক্ষকের পক্ষে গেলে উভয়পক্ষে তর্ক হয়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুকলেছুর রহমান মুকুলের ভাই পলাশ সাইফুল্লাহর গলায় আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় আরেক জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনও আহত হন। সাইফুল্লাহ বারী রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে। ঘটনার পরদিন রাতে নিহতের বাবা ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, ঘটনার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্ত মুকুলের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে পাশের তিনটি নিরপরাধ পরিবারের বাড়িঘরও পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তারা কোনো রাজনীতিতে জড়িত নন।