সব সংবাদ
জাতীয়

যমুনার ভাঙনে বিলীন শতবাড়ি, দিশেহারা হাজারো মানুষ

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরের হাজারো পরিবার রাত কাটাচ্ছেন নির্ঘুম।

সিরাজগঞ্জে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগ্রাসী হয়ে উঠছে যমুনা নদী। এতে নদীর পূর্বপাড়ে কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের দুটি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এসব এলাকার প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরের মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

কাজিপুরের চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন সরকার জানান, চরগিরিশ চরে একসময় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বসবাস ছিল। নদী ভাঙনের কারণে ১৫০টি পরিবার আগেই অন্যত্র চলে গেছে। গেল ১০ দিনে অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে আরও শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

ভিটেমাটি হারানো আব্দুল মোমিন বলেন, এই চরে বাবা-দাদার ভিটা ছিল। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব নদীতে চলে গেছে। এখন অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছি।

অপরদিকে চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ও ভুসুরিয়া চরাঞ্চলে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গেল ১০ থেকে ১৫ দিনের ভাঙনে বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, বেসরকারি স্কুল ও দোকানপাটসহ অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে নদীতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না। তবে নদী তীরের বাসিন্দারা ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাঙনরোধে চৌহালী উপজেলার একটি স্থানে এবং সিরাজগঞ্জ সদরের বাহুকা এলাকায় কাজ চলছে। তবে যমুনা নদীর বিশাল এলাকাজুড়ে চরাঞ্চল। এসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিলে আসলে কিছু করার থাকে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে নয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৫১ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে সাত সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৯৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।