ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ইশতিয়াকের ভিডিও ভাইরাল, পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগ
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে মারা গেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ। পরিবারের দাবি, আটকের পরদিন ডিবির নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে প্রচার হতে শুরু করে। মির্জা ইশতিয়াক ওরফে প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, আটকের পরদিন ডিবির নির্যাতনে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হেফাজতে তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। ভিডিওতে দেখা যায়, পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে লুঙ্গি পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন ইশতিয়াক। তার কাঁধে একটি ল্যাপটপ ব্যাগ ছিল। ভিডিওতে তাকে ঘিরে আরও তিনজনকে দেখা যায়, যারা ডিবি পুলিশ দলের সদস্য। ভিডিওতে একজন লাল রঙের টি-শার্ট পরা ডিবি সদস্য প্রথমে ইশতিয়াকের গতি রোধ করেন এবং ঠেলা ধাক্কা দেন। পরে সাদা টি-শার্ট পরা আরেক ব্যক্তি এসে ইশতিয়াকের কোমর ধরে তাকে কিছু বলতে দেখা যায়। ভিডিওর ১৪ সেকেন্ডে ইশতিয়াককে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ৩৬ সেকেন্ডে একটি গালি দিয়ে ইশতিয়াকের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন সাদা রঙের টি-শার্ট পরা ডিবি সদস্য। ওই সময় লাল রঙের টি-শার্ট পরা সদস্য তাকে বাধা দিয়ে বলেন, 'মারিস না।' গত ২১ জুন বিকেল ৫টার দিকে ইশতিয়াককে আটক করে ডিবি। পরিবারের অভিযোগ, আটকের সময় তার মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয়। ডিবির হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুন রবিবার সকাল ৮টার দিকে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়। ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার দাবি করেন, ওই রাতেই ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ইশতিয়াককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তার আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি সদস্যদের কথা হয়েছিল। পরে ডিবি জানায়, এই ছেলে কলেজে পড়ে, ছাত্রলীগ করে, আজ তাকে ছাড়া হবে না। কাল সকালে এক লাখ টাকা দিয়ে ফরিদপুর আসেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে খাদিজা আক্তার বলেন, সকালে এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শুনে হাসপাতালে যাই। গিয়ে আমি আমার ছেলের লাশ পাই। এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।