ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে দোষারোপ, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হুমকিতে
উপসাগরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টা হামলার ঘটনায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হামলা করে বলেছে ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করছে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবাণী দিয়ে বলেছেন, কোনো হিংসামূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে তাৎক্ষণিক এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রাসন হলে প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত পরিসরে হবে।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার স্থাপনায় সর্বশেষ হামলা চালিয়েছে এই অভিযোগে যে, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা করেছে। এই হামলার শিকার হওয়া জাহাজটি ছিল সিঙাপুর-নিবন্ধিত 'এভার লাভলি'। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির 'নির্বোধমূলক' লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে আমেরিকান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় হামলার কথা স্বীকার করা হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণের সিরিক বন্দরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও তেলের দাম কমেছে, কারণ আশা করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত স্মারক বোঝাপড়ার (এমওই) ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চূড়ান্ত চুক্তির জন্য শক্তিশালী যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ যাচাইকরণের অধীনে 'ডাউনব্লেন্ড' করা উচিত বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।