সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

উপসাগরে ইরানের পাল্টা হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় হামলার দাবি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

২৭ জুন ২০২৬ তারিখে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসি এ দাবি করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি শত্রুপক্ষ আবারও আগ্রাসন চালায়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও শক্তিশালী, বিস্তৃত ও নির্ধারক। এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হামলার জন্য তেহরান দায়ী। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন হামলা এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ফলে সেই আশায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের 'বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন' বলে মন্তব্য করেন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজার, নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।