হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বন্দ্ব
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। তবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি সচল রাখা। আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল গঠনের বিষয়টি উঠে এলেও এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
তবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো যোগাযোগ চ্যানেল বর্তমানে নেই, অতীতেও ছিল না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেই।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের নির্ধারিত ও অনুমোদিত রুট অনুসরণ করতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ অঞ্চলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আইআরজিসির নৌবাহিনীর আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অনুমোদিত নৌপথের বাইরে দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তবে আইআরজিসির সতর্কবার্তার পর জাহাজগুলোকে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়েছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। ওমান নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এই করিডোর চালু করা হয়েছে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই সামুদ্রিক করিডোর ব্যবহারে কোনো ধরনের ফি নেওয়া হবে না। তবে করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে আইএমও এবং সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যোগাযোগ চ্যানেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ভবিষ্যতেও নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।