সব সংবাদ
জাতীয়

একই পরিবারে চারজনের নৃশংস হত্যা: মা ও তিন বোনকে কুপিয়ে খুন করল প্রতিবেশী

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় মা ও তার তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) এবং সিপা আক্তার (৯)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে (৩০) স্থানীয়রা পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের একমাত্র সদস্য সিফাত (১৯) এখন একেবারে নিঃস্ব।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একটি ভাড়া বাসায় শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) এবং সিপা আক্তারকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এখন ওই পরিবারের একমাত্র সদস্য সিফাত (১৯)।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে (৩০) আটক করে পিটুনি দেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাসমান ফল বিক্রেতা ছিলেন।

সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সিফাতের বাবা মো. কামাল। এরপর চার সন্তানকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শাহিনুর। ধার-দেনা আর মানুষের সহযোগিতায় বড় মেয়ে সায়মাকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করান।

পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে সাত হাজার টাকা বেতনে রায়পুর বাজারের একটি নির্মাণসামগ্রীর দোকানে চাকরি নেন সিফাত। দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম মুরাদ জানান, সিফাত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকানে চলে আসত। গতকাল সে নাস্তা না করেই কাজে এসেছিল। পরে তার মা ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, সিফাত নাশতা খেয়েছে কি না। সিফাত বলেছিল—খেয়েছি। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।

দুপুরের দিকে বাসায় ফিরে সিফাত যা দেখেছে, তা কারও পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল তার মা ও দুই বোনের নিথর দেহ। আর গুরুতর আহত অবস্থায় বড় বোন সায়মাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তার মৃত্যু হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও তিন বোনের মরদেহ পরিবারের একমাত্র সদস্য সিফাতের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল মান্নান জানান, দুপুরে একটি হত্যা মামলা করেছেন সিফাত।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রশিদ জানান, অন্তর ওই ভবনের ওপরের তলায় একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। প্রায় সাত-আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে লক্ষ্মীপুর শহরে চলে যান। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ওই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও আসা-যাওয়া ছিল। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

মূল প্রতিবেদন (Reference): ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা: আর কেউ রইল না সিফাতের — The Daily Star (Bangla)