ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃত্যু বেড়ে ৫৮৯
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের ৮০ সদস্যের বিশেষ উদ্ধারকারী দল, মেক্সিকোর ত্রাণকর্মী এবং আরও কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ভেনেজুয়ায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধসে পড়া ভবনগুলোতে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও মানুষের সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের দুটি প্রধান হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার রাতে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভূতত্ত্ববিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির উপকূলজুড়ে বিস্তৃত সান সেবাস্তিয়ান ফল্টে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার কারণেই এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও চেকিয়া বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।