ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে হামলার জন্য ইরানকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে 'বোকামি পূর্ণ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন' হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজটি পরে নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে 'বোকামি পূর্ণ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন' হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার জাহাজটি একটি প্রক্ষেপ দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জবাবে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ১১,০০০ এর বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।
ট্রাম্প শুক্রবার তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান কমপক্ষে চারটি ড্রোন জাহাজের দিকে ছুড়েছে, যার একটি আঘাত করেছে। তিনি লিখেন, 'অবশ্যই, এটি আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি বোকামি পূর্ণ লঙ্ঘন।'
তেহরান সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মন্তব্য প্রকাশ করেছে। হামলাটি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করার পরে হয়েছে। আইআরজিসি বলেছিল, আইএমও নির্ধারিত পথে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা 'অগ্রহণযোগ্য এবং সম্পূর্ণ বিপজ্জনক' হবে এবং জাহাজগুলোকে ইরানের সাথে সমন্বয় করতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, তারা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে একটি একটি 'বড় এবং খুব ব্যয়বহুল কার্গো জাহাজের' উপর তলায় আঘাত করেছে। 'ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু জাহাজটি তার পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে,' তিনি বলেন।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তি সংস্থা ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওমানের দাহিত বন্দর থেকে ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি অজানা প্রক্ষেপ দ্বারে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সিঙ্গাপুর-পতাকাবাহী জাহাজ 'এভার লাভলি' আইএমওর সুপারিশকৃত পথ অনুসরণ করছিল বলে জাহাজের মালিক এভারগ্রিন জানিয়েছে। 'সকল ক্রু সদস্য নিরাপদ এবং জাহাজ ও সমস্ত কার্গোও নিরাপদ,' বলা হয়েছে।
আইএমও প্রধান ডোমিঙ্গুয়েজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, জাহাজটি 'আইএমওর সরিয়ে নেওয়ার কাঠামোর অধীনে পার হয়নি'। শুক্রবার তিনি বলেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাট, ইরান এবং ওমানসহ পক্ষগুলোর সাথে কাজ করছেন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য না করার নিশ্চয়তা পেতে।
এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যার ফলে প্রণালীটি পুনরায় খোলা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলা শুরু করার পর ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল।