যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করলো ইসরাইল-লেবানন চুক্তি কাঠামো
মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি চুক্তি কাঠামো ঘোষণা করেছেন। তবে এটি শান্তি প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেম বলে জানিয়েছেন তিনি।
মার্কো রুবিও ওয়াশিংটন ডিসিতে চার দিনের মধ্যস্থতা আলোচনার পর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি চুক্তি কাঠামো ঘোষণা করেছেন। তবে রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি শুধুমাত্র আরও আলোচনার প্রথম পদক্ষেপ। তিনি বলেন, এটি শুরুর শুরু মাত্র। আরও অনেক কাজ বাকি আছে। গতকাল (শুক্রবার) এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, লেবাননের জনগণ দশকব্যাপী বাইরের হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। এই আলোচনা চলাকালীন লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্মারকলিপি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যার মধ্যে লেবাননসহ সব মোড়ে সামরিক অপারেশন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে রেখেছে এবং এমওইউ স্বাক্ষরের পরেও দেশটি বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ইসরাইলি সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করছে এবং হামলা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে একটি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম বলেছেন, শান্তির জন্য ইস্রাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ছেড়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে লেবানন নিয়ে উত্তেশনা বাড়ছে। এই মাসের শুরুতে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে 'পাগল' বলে ডাকলেও তিনি বলেছিলেন নেতানিয়াহু একজন ভালো মানুষ। জি-7 সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, লেবানন নিয়ে তাদের একটু বিবাদ আছে এবং হিজবুল্লাহ থেকে কেউ প্রবেশ করলেই প্রতিটি ভবন ভাঙতে হবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-লেবানন আলোচনা আয়োজনের প্রথমবার নয়। এপ্রিলে রুবিও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করেছিলেন, যা ১৯৯৩ সালের পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ ছিল। মে মাসে দুই দিনের আলোচনা শেষে একটি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে বলেছেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম পদক্ষেপ। ইসরাইলের প্রতিনিধি ইচিয়েল লাইটার বলেছেন, এই চুক্তি শান্তির দিকে ট্রেনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে।