সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর: মালয়েশিয়া ও চীন সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এরপর তিনি চীন সফরে যাবেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগ দেবেন। এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রোববার তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনে যাবেন এবং সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বৃহত্তর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে—যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকল।

এই চুক্তিগুলো শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, গণমাধ্যম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে হবে। এছাড়া দুই দেশ তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করবে এবং বাংলাদেশ চীনের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগ দিতে পারে।

২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। মালয়েশিয়া সফরের প্রধান দিকগুলো হবে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা ও শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সই করা—যার একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং অন্যটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত।

ঢাকা আসিয়ানের 'সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার' হতে চাইবে এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করবে। আলোজনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। সন্ধ্যায় তারেক রহমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভা সামার দাভোসে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন।

২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সম্মেলনের ফাঁকে কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। সেদিন তিনি 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ' শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।

২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং এরপর ট্রেনে করে বেইজিং যাবেন। ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ওই দিনই তিনি 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ ভাষণ দেবেন এবং 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ চীনা প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওই দিনই ঢাকা ফেরার আগে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা হবে যথাক্রমে ২৭ এবং ২৮ জন।