পাবনায় পদ্মার চরে জমি দখল নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু
পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীর একটি দুর্গম চরে জমি দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনায় মঞ্জু শেখ (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চর এলাকায় শুক্রবার সকালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোতকুরিয়া চর এলাকায় নদী সীমানায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ বাঁধে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত মঞ্জু শেখ (৪০) পাবনা সদর উপজেলার আরিয়াগোহাইলবাড়ী গ্রামের দারোগ শেখের ছেলে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চরের জমি দখল এবং অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ দাবি করেছেন, মঞ্জু বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর এলাকার কয়েকটি গ্রুপ পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে আসলে মঞ্জু প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। তখনই তার ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মঞ্জুকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। চলতি মাসে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এটি গোলাগুলির তৃতীয় ঘটনা। এতে মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। গত ১৬ জুন নাটোরের লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকা থেকে এক জেলের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মাছ ধরার সময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এর আগে ৯ জুন একই উপজেলার চরজাজিরা পয়েন্টে পদ্মা নদী থেকে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বালু মহল ও চরের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা।