চীনের বড় উদ্যোগ: চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বেইজিং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে এবং নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের চীন সফরে বেইজিং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সফরটি ছিল ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের উদ্দেশে গত ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রথমে মালয়েশিয়া সফর শেষ করে ২২ জুন তিনি চীনে যান। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিসহ মোট ১৭টি দলিল সই হয়। এই সমঝোতাগুলোর মধ্যে চীনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের অধীনে একটি সমঝোতাও রয়েছে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সমান বলে বিবেচিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তারেক রহমান চীনকে একটি মহান দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে চীন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে বলে জানান এবং চীন বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান ও বিশ্বস্ত অংশীদার বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায় দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় জোরদার, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, গ্রিন এনার্জি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা ও বিনিময় বৃদ্ধি করতে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাইওয়ানকে চীনা ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেন, চীন সবসময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বের নীতিতে অবিচল রয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তারেক রহমান ও শি জিনপিং যৌথভাবে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলার ঘোষণা দেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর আগে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে সংযুক্ত করা।