সব সংবাদ
রাজনীতি

প্রতিশোধ নয়, গুমের সুষ্ঠু বিচার চাই: তাহসিনা রুশদীর লুনা

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তার স্বামী ও গাড়িচালককে গুম করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে। তারা প্রতিশোধ নয়, গুমের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

তাহসিনা রুশদীর লুনা শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন 'মায়ের ডাক'-এর আয়োজনে 'ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চার ২০২৬' উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল আমার স্বামী ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে গুম করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাজারো বিএনপি নেতাকর্মীকে শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে গুমের শিকার হতে হয়েছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের নির্মমতা চালানো হয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা জোরালো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় ছুটেছেন, গুম কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ফিকে হয়ে আসলেও, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এখন সংসদে এবং বিভিন্ন ফোরামে গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষে কথা বলতে পারছেন। বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সরকার যেভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতার ব্যবস্থা করেছে, একইভাবে গুমের কারণে সংকটে পড়া পরিবারগুলোর জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা উচিত। এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি ও সম্মান। এ বিষয়ে তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে লুনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন অতীতে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিশোধ চান না, তারাও কোনো প্রতিশোধ চান না। কারণ প্রতিশোধ নিলে স্বজনদের ফিরে পাবে না। তবে তারা বিচার চান। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও পরিবার একই ধরনের নির্মমতার শিকার হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি অধিকতর যাচাই-বাছাই ও সংস্কারের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গুম ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইনও রয়েছে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে যে তারা এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, তারা নিয়মিত আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। গত মাসের ১৭ তারিখেও মানবাধিকার সংস্থার প্রধান ও সাংবাদিকদের নিয়ে কীভাবে আইনটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন, বাজেট অধিবেশন-পরবর্তী অধিবেশনেই গুম ও মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনটি সংসদে পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।