দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি-কে ৭ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি-কে ঘুষের বিনিময়ে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে পৃথক এক মামলায় তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিয়ন হি-কে ঘুষের বিনিময়ে বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বিচারক জো সুন-পিয়ো বলেন, রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সর্বোচ্চ সংযম ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। কিন্তু কিম কিয়ন হি সেই সামাজিক দায়িত্ব পালন না করে নিজের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বারবার মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন। এই মামলায় প্রধান অভিযোগ ছিল ২০২২ সালে সিওহি কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান লি বং-কোয়ানের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ওন (প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের হীরার নেকলেস ও অন্যান্য গয়না নেওয়ার বিষয়টি। অভিযোগ অনুযায়ী, এর বিনিময়ে চেয়ারম্যানের জামাতার জন্য সরকারি পদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন কিম। এছাড়াও রোবোটিক কুকুর প্রকল্পে সরকারি সহায়তার প্রত্যাশী এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দামি ঘড়ি, সরকারি প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির আশায় এক পাদ্রির দেওয়া ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ, সরকারি পদ পাওয়ার তদবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সোনার কচ্ছপের মূর্তি, ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্ম এবং প্রায় ১৪ কোটি ওন (প্রায় ৯১ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের একটি শিল্পকর্ম গ্রহণের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। আদালত কিমের কাছ থেকে পাওয়া সব উপহার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের হীরার নেকলেস, টিফানির ব্রোচ, ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ, সোনার কচ্ছপের মূর্তির সংরক্ষণ বাক্স এবং খ্যাতিমান শিল্পী লি উফানের একটি চিত্রকর্ম। গত বছরের আগস্টে গ্রেফতারের পর থেকে একাধিক মামলায় তার বিচার চলছে। এর আগে পৃথক এক মামলায় ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ এবং শেয়ারবাজারে কারসাজি থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগে আপিল আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। রায়ের পর কিমের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন ইউন সুক ইওল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় অভিশংসনের পর তিনি ক্ষমতা হারান।