সব সংবাদ
জাতীয়

সাভার থানায় এক মাস ধরে নেই ওসি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকার সাভার থানায় এক মাসের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেই। গত ২৬ এপ্রিল স্থানীয় দুই সাংবাদিকের উপর হামলা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে তৎকালীন ওসিকে ক্লোজ করা হয়। এই শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় এলাকার জনসাধারণ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা সাভার থানায় এক মাসের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৬শে এপ্রিল স্থানীয় দুজন সাংবাদিকের উপরে হামলা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে তৎকালীন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরমান আলিকে ক্লোজ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত যোগ দেয়নি নতুন কোনো ওসি। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থায়ী নেতৃত্বের অভাব মাঠপর্যায়ে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সাভার থানার ওসি পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় থানার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অপরাধ দমন কার্যক্রমের সমন্বয় এবং জনসাধারণের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সাভারে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলাচল থাকে। ফলে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, থানার দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন কাজ দেখভাল করছেন। তবে একজন পূর্ণাঙ্গ ওসির উপস্থিতি থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও দ্রুত ও কার্যকর হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরেক সদস্য বলেন, সাভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে শিল্পকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা রয়েছে। স্থায়ী নেতৃত্ব না থাকলে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত ওসি নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাভার বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, আমরা চাই থানায় দ্রুত একজন ওসি নিয়োগ দেওয়া হোক। এলাকায় চুরি, ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধের ঘটনা ঘটলে জনগণ একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে দ্রুত সেবা প্রত্যাশা করে। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, থানায় কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। তবে দীর্ঘদিন ওসি না থাকলে সাধারণ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ পদে নিয়োগ দেওয়া। পরিবহন শ্রমিক মো. সোহেল জানান, সাভার-আশুলিয়া সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। যানজট, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের কার্যকর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তাই শূন্য পদটি দ্রুত পূরণ করা দরকার। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় দীর্ঘদিন প্রধান কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতার বার্তা দিতে পারে। এতে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবুও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সাভার থানায় দ্রুত একজন স্থায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে জনগণের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ঈশান বলেন, বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। থানার স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে তেমন একটা অসুবিধা হচ্ছে না। খুব দ্রুতই সাভার থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।