ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: কারাকাস কেন এতটা ক্ষতিগ্রস্ত?
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২৩৫ জন নিহত এবং ৪,৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। কারাকাসের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অনানুষ্ঠানিক বস্তি এলাকায় নির্মাণ এবং ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে এই বিপুল ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে দেশটির রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ৭.২ মাত্রার এবং এর প্রায় এক মিনিট পর দ্বিতীয়টি ৭.৫ মাত্রার, যা ১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী। শুক্রবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হর্গে রদ্রিগেজ জানিয়েছিলেন যে ২০০ জন আটকে পড়েছিল এবং সারাদেশে ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকায় কমপক্ষে আটটি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলা রেড ক্রসের সদর দপ্তর এবং ফরাসি দূতাবাস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি ভেনেজুয়েলার ১১১ বিলিয়ন ডলারের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) ১ থেকে ৭ শতাংশ বলে অনুমান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারেদো বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন যে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ২৩৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ৪,৩০০ জন আহত হয়েছে। শত শত মানুষ এখনও ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া বা নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কারাকাস এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে। ১৮১২ সালের ভূমিকম্পে মেরিদা ও কারাকাস শহরে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল এবং কারাকাসের উপনিবেশিক স্থাপত্য প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি উঁচু ভবন ধ্বংস হয়ে ২৪০ জন মারা গিয়েছিল।
কারাকাস কেন এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। ভেনেজুয়েলা ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের শিকার হয়ে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ ভাশান রাইট জানিয়েছেন, কারাকাস একটি গভীর পলি অববেতায় অবস্থিত, যা ভূমিকম্পের তরঙ্গকে বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও, কারাকাসের অনানুষ্ঠানিক বস্তি এলাকায় (বারিওস) নিজেদের তৈরি সস্তা ঘর, প্রায়ই পাহাড়ের ঢালে, যেগুলোতে ইস্পাতের সংযোজন বা প্রতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই, সেগুলো ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে না। শহরের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাসিন্দা এই অনানুষ্ঠানিক এলাকায় বাস করেন।
ভূমিকম্প প্রতিরোধমূলক নির্মাণ মানদণ্ড ও পরিকল্পনা প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এছাড়াও, ভূমিকম্পগুলো প্রায় ৭.৮ কিলোমিটার গভীর ছিল, যা একই মাত্রার গভীর ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক।
জাপানের মতো দেশে কঠোর নির্মাণ মানদণ্ড এবং বেস আইসোলেশন প্রযুক্তির মতো উন্নত প্রকৌশল ব্যবহার করে ভূমিকম্পের ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।