ফেনীতে ক্রেতা না পেয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হলো শতাধিক কুরবানির পশুর চামড়া
ফেনীর দাগনভূঞায় দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী কুরবানির ঈদে সংগ্রহ করা শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া বিক্রি করতে না পেয়ে ক্ষোভে কাটাখালী নদীতে ফেলে দিয়েছেন। পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী দিদারুল আলম ও খুরশিদ আলম কুরবানির ঈদের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজারে নেওয়া হলেও শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা পাননি তারা।
চামড়াগুলো সংরক্ষণের অভাবে পচন ধরতে শুরু করে। প্রচণ্ড গরমে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে ভ্যানগাড়িতে করে কাটাখালী নদীতে চামড়াগুলো ফেলে দেন তারা। পরে সেগুলো নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
এ ঘটনায় রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহিদুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুই ব্যবসায়ী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানান।
খুরশিদ আলম বলেন, বাড়ি বাড়ি ঘুরে নগদ অর্থ দিয়ে চামড়াগুলো কিনেছিলাম। কিন্তু কোনো ক্রেতা না পেয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
নদীতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, চামড়াগুলোর পচা দুর্গন্ধে পানি দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার ভিডিও প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিক্রি না হলে তারা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানাতে পারতেন।