সংসদে প্রস্তাব: জুলাই শহীদ ও গুম হওয়াদের পরিবারকে এমপি অফিসে চাকরি দেওয়া হোক
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান জাতীয় সংসদে প্রস্তাব করেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিসে চাকরি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমান এই প্রস্তাব করেন। তিনি বাজেটে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের কল্যাণে উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। আনিসুর রহমান বলেন, উপজেলা পরিষদে যে অফিস রয়েছে, সেখানে জুলাই শহীদ পরিবার ও গুম হওয়া পরিবারের যেকোনো একজন যোগ্য সদস্যকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে তারা উপকৃত হবেন। তিনি নিজে তার অফিসে এমন একজনকে চাকরি দেবেন বলে জানান এবং সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পুনর্বাসন ও কল্যাণে বিশেষ বরাদ্দ বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, নতুন অর্থবছরের বাজেটকে আকারে বড়, উচ্চাভিলাষী ও সংস্কারমুখী বলে মন্তব্য করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান। তিনি বলেন, বহু বছর পর বাজেটটি সহানুভূতিশীল হয়েছে; কারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর বড় চাপ তৈরি করা হয়নি। তবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আহরণ, ঘাটতি পূরণ, প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বাজেটকে শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বাজেট বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হবে। তৈরি পোশাক খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দেশীয় সুতা শিল্প রক্ষায় বিদেশ থেকে আমদানি করা সুতার ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বাজেটকে সাহসী আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে অবৈধ বালু উত্তোলন এখন মাফিয়া সেক্টর হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বাজেটকে ঐতিহাসিক, সাহসী ও দূরদর্শী বলে সমর্থন জানান এবং দুর্গম এই পার্বত্য এলাকার জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ দাবি করেন।
ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেন বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট বলে মন্তব্য করেন এবং এটি জনবান্ধব নয়, দলবান্ধব বলে মন্তব্য করেন।