আশুরার প্রকৃত শিক্ষা ও প্রচলিত ভুল বিশ্বাস
পবিত্র মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন আল্লাহ। কিন্তু সমাজে আশুরাকে ঘিরে অনেক ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে যেগুলোর কোনো কুরআনি দলিল বা সহিহ হাদিস নেই।
পবিত্র মহররম ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এই মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ আশুরার দিন, ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, মহররমের ১০ তারিখে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) এবং বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে ইহুদিরা এ দিনে রোজা পালন করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর ইহুদিদের এই আমল দেখতে পান এবং বলেন, মুসার অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার। এরপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।
আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আশুরার দিনের রোজা আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে সমাজে আশুরাকে কেন্দ্র করে অনেক ভিত্তিহীন বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: আশুরার দিন হজরত আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছিলেন, এ দিনে হজরত ইবরাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এ দিনে গোসল করলে সারা বছর রোগ হবে না, এ দিনে সুরমা ব্যবহার করলে চোখের রোগ হয় না, বিশেষ খিচুড়ি রান্না করাই আশুরার আমল, আশুরা অশুভ বা অপয়া দিন এবং ১০ মহররম কেয়ামত সংঘটিত হবে। এসব দাবির পক্ষে কোনো সহিহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য ইসলামী দলিল নেই।
মহররমের ১০ তারিখে কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কারবালার ঘটনার বহু আগ থেকেই আশুরার দিনটি মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ছিল। আশুরার মূল আমল হলো রোজা রাখা, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করা। শোককে কেন্দ্র করে মাতম, বুক চাপড়ানো বা শরীর আঘাত করা ইসলামী শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত নয়।
আশুরার সঠিক আমলগুলো হলো: রোজা রাখা (রাসুলুল্লাহ ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখার উৎসাহ দিয়েছেন), তাওবা ও ইস্তিগফার করা, জিকির ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা, দান-সদকা করা এবং নবীদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ। আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, তাওবা-ইস্তিগফার, নফল রোজা এবং নবীদের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ।