সব সংবাদ
ফেনী

ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যূত্থানের ঢেউ: গ্রাম থেকে শহরে বিক্ষোভের ছড়াছড়ি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যূত্থান ফেনী শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। ৪ আগস্ট মহিপালে ১১ ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক গাজী সালাহউদ্দিন আমান গুলিবিদ্ধ হন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যূত্থানে রাজধানী ঢাকাসহ মফস্বল শহরে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের প্রভাব ফেনী শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

৪ আগস্ট মহিপালে এই আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ১১ ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ ও মো. সবুজ ছাড়া বাকি সবাই গ্রাম থেকে শহরে এসে আন্দোলনে যোগ দেন।

ফেনী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন ফাহিম দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের হীরাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ১৭ জুলাই থেকে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নেন। সেদিন মহিপালে স্কুল-কলেজের ড্রেসে থাকা শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে মারধর করা হয়। হুমকির মুখে দাগনভূঞায় কর্মসূচী পালন করতে না পারলেও উপজেলা থেকে সংগঠিত হয়ে জেলা শহরে ১০-১৫ জন নিয়ে অংশ নিতেন। ৩ আগস্ট রকিবুল ইসলাম জাবেদসহ ১৪-১৫ জনকে নিয়ে দাগনভূঞা থেকে ফেনী শহরের কর্মসূচীতে যোগ দেন। পথিমধ্যে পাঁচগাছিয়া, তেমুহনী থেকে অনেকে যোগ দেয়।

ফাহিম আরও জানান, ৪ আগস্ট মহিপালে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের অনেককে দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সিএনজি অটোরিক্সা সিলোনীয়া বাজার ও বেকের বাজারে থামিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা তল্লাশি করে। গাড়ীতে থাকা অনেককে কাঠ, ব্যাট, স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। সেদিন মহিপালে তাঁর হাতে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয় এবং ইটপাটকেলে আহত হন। বাড়ি ফেরার পথে বেকের বাজারে তাঁসহ অন্তত ২০ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর জায়লস্কর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ ভূঞা অনি জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে ৫ জুন থেকে তিনি সক্রিয় হন। ১৭ জুলাই ট্রাংক রোডের কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাঁকে টার্গেট করে। ৩১ জুলাই সিলোনীয়া বাজারের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। তখন গ্রেফতার এড়াতে কৌশলগত অবস্থান নেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক গাজী সালাহউদ্দিন আমান জানান, প্রতিজন সমন্বয়কদের একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়। একটি গ্রুপের দায়িত্বে তিনি ছিলেন। ওই গ্রুপে ২০০-এর অধিক সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে ৭০-৮০ জন সক্রিয় থাকতেন। এখানে ৭ জন সংগঠকের ভূমিকা পালন করে। তিনি যখন অনলাইনে থাকতেন না তখন ফারদিন পরিচালনা করতো। সংগঠকরা বিভিন্ন সময় একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন। বেশিরভাগ বাসিন্দা গ্রামের হলেও তারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কর্মসূচীতে জীবনবাজি রেখে অংশ নিতো।

আমান আরও উল্লেখ করেন, ৪ আগস্ট শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের হলি ক্রিসেন্টের সামনে হামলাকারীদের নির্বিচার গুলিতে তাঁর শরীরে ৩টি বুলেট লাগে। বৈষম্যহীন দেশ গড়ার যে উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তার ১০ শতাংশও পূরণ হয়নি। শুধু তাই নয়, বিপ্লবী সত্তা তাঁর ভাইদের খুনীদের বিচার প্রক্রিয়াও দৃশ্যমান করতে পারেনি।