সব সংবাদ
জাতীয়

৪৩তম বিসিএস: হাইকোর্টের নির্দেশ, ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে নন-ক্যাডার মেধাতালিকা

হাইকোর্ট ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের মেধাভিত্তিক ফল ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে পিএসসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত রায়ের অনুলিপি পাওয়ার এই সময়ের মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ ও তারপর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। ৪৬৫ জন প্রার্থীর দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়।

৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীদের মেধাভিত্তিক ফল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মী রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই রায় দেন। আদালত বলেছেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তারপর আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ৪৬৫ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীর দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে এই রায় দেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৯ হাজার ৮৪১ জন প্রার্থী। পরে ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নন-ক্যাডার পদে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে পছন্দক্রম আহ্বান করে পিএসসি। এরপর ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর পিএসসি বিভিন্ন ক্যাডার পদে ২ হাজার ১৬৩ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ৬৪২ জনকে সুপারিশ করে। তবে আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে সংশোধিত নন-ক্যাডার নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০১০ লঙ্ঘন করে পিএসসি নন-ক্যাডার মেধাতালিকা প্রকাশ করেনি। আবেদনকারীদের দাবি, ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, যেসব প্রার্থী ক্যাডার পদে নিয়োগ পাবেন না, তাদের উক্ত বিধিমালা অনুযায়ী নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হবে। বিধিমালা অনুযায়ী, শূন্যপদ সংরক্ষণ করে ধাপে ধাপে মেধাক্রম অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের সুপারিশ করার কথা পিএসসির। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশ না করেই সরাসরি ৬৪২ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। আবেদনকারীরা আরও বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ হাজার ৫২৫টি নন-ক্যাডার পদের বিপরীতে প্রার্থী সুপারিশ করতে পিএসসিকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পিএসসি মাত্র ৬৪২ জনকে সুপারিশ করেছে। আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট সুপারিশ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম চিহ্নিত করেছেন এবং স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পিএসসির আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনিরুজ্জামান বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর পিএসসি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।