সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: নিষেধাশেষ কীভাবে ত্রাণ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে?

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী পরপর দুটি ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং প্রায় ১,০০০ জন আহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাশেষ ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী পরপর দুটি ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরের ভবন ধসে পড়েছে, যার ফলে অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং প্রায় ১,০০০ জন আহত হয়েছে। বুধবারের এই ভূমিকম্পের পর দেশটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, তারা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছে এবং দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিকে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার উপর কঠোর নিষেধাশেষ আরোপ করেছিল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর নিষেধাশেষ আংশিক তুলে নেওয়া হয়েছে। মাদুরোর মিত্র দেলসি রোদ্রিগেজের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি প্রধান উদ্বেগ রয়েছে — প্রথমত, ত্রাণ সামগ্রী দরকারদের কাছে পৌঁছাবে কিনা; দ্বিতীয়ত, এই দুর্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় আরও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠবে কিনা।

ফিনল্যান্ডের হুমলগ ইনস্টিটিউটের সারাহ শিফলিং বলেছেন, নিষেধাশেষের গৌণ প্রভাবগুলো মানবিক সহায়তার প্রবাহকে সীমিত করে। আর্থিক নিষেধাশেষ এনজিওগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে কর্মী বা সরবরাহকারীদের টাকা পাঠাতে কষ্ট দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত প্রশাসনিক বোঝা কার্যক্রম ধীর করে দেয় এবং পণ্য আমদানি ও কর্মী প্রবেশ কঠিন করে তোলে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ ভেনেজুয়েলীয় দরিদ্রতার মধ্যে বাস করে। অনেক মানুষের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধে প্রবেশাধিকার নেই।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা ও মানবিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সম্পদ পাঠাচ্ছে। তবে শিফলিং সতর্ক করেছেন, মানবিক নীতি অনুযায়ী ত্রাণ নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা প্রায়ই হয় না এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নিজের প্রভাব বাড়াতে এই সুযোগ ব্যবহার করবে।

মূল প্রতিবেদন (Reference): Venezuela quakes: How will sanctions impact aid operations? — Al Jazeera