হবিগঞ্জে ধসে পড়লো একমাত্র সেতু, চরম দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় কাপাই ও লস্করপুর চা-বাগানের মধ্যে একমাত্র সেতুটি ভূমিধসে ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার কাপাই এবং লস্করপুর চা-বাগানের মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র সেতুটি গত রোববার রাতে ধসে পড়েছে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাশে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক ও মধ্যবর্তী অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে দুই চা-বাগানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাপাই চা-বাগানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন লস্করপুরের সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে এই সেতুর ওপর নির্ভর করত। সেতু ধসে পড়ায় এখন তাদের নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কাপাই বাগানের শ্রমিকরা সংগৃহীত চা পাতা লস্করপুরের কারখানায় পাঠাতেন, কিন্তু এখন তাদের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর আগে এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করেছিল। আগে একবার ভূমিধসে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সঠিক মেরামত করা হয়নি। লস্করপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক জানান, সেতুর মাঝের স্তম্ভ সম্পূর্ণ ধসে গেছে। এটি মেরামত করে ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব নয়, নতুন সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।
চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল সতর্ক করে বলেন, পাহাড়ের ঢাল থেকে অবাধে গাছপালা কাটলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু সেতু নির্মাণ করলে চলবে না, পাহাড়ের ঢাল পুনরুদ্ধার ও বনাঞ্চল সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।