সব সংবাদ
জাতীয়

গৌরীপুরে বিজয় এক্সপ্রেসের তিনটি বগি লাইনচ্যুত

আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন এলাকায় লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার রাতে দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রিলিফ ট্রেন ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং সাড়ে ১১টার মধ্যে কোচগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাত থেকে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুর অবস্থা গুরুতর।

জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি বা কোচ ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। বুধবার (২৫ জুন) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ ঘটনাস্থলে রেখে বাকি ১১টি কোচ নিয়ে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কোচগুলো উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা কাজ করেন। গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিজয় এক্সপ্রেসের পরিচালক মাসুদ মিয়া জানান, ট্রেনটি রাত ১০টা ২২ মিনিটে গৌরীপুর জংশনে প্রবেশ করে এবং রাত ১০টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পেছনের তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়। চালক দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন, ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রী ইফতেখার ইসলাম জানান, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি কোচের মধ্যে দ্বিতীয় কোচে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে এবং মালামাল নিয়ে দ্রুত কোচ থেকে নেমে যান। আরেক যাত্রী নেওয়াজ আলী বলেন, পেছনের কোচগুলো থেকে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও ঝাঁকুনিতে সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুর অবস্থা গুরুতর ছিল এবং তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।