সব সংবাদ
অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন, বাংলাদেশে এখনই কমছে না জ্বালানির দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বাংলাদেশে এখনই তেলের দাম কমানো সম্ভব নয়। বিপিসি গত চার মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসানে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সইয়ের পর হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার থেকে বেড়ে মে মাসে ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠেছিল, যা এখন ৭৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। এই পতনে খাত সংশ্লিষ্টরা দেশে জ্বালানির দাম কমার আশা করছিলেন।

তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে তেলের দাম এখনই কমানো সম্ভব নয়। কারণ, বিপিসি আগে বেশি দামে তেল কিনেছিল। প্রতি লিটার ডিজেল ১২৯ টাকায় কিনে ১১৫ টাকায় বিক্রি করায় প্রতি লিটারে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। গত চার মাসে বিপিসির লোকসানের পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি থেকে কিছুটা লাভ হলেও সামগ্রিকভাবে বিপিসি লোকসানে রয়েছে।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কিনে এখনো লোকসান দিতে হচ্ছে সরকারকে। তাই আপাতত তেলের দাম কমানো যাবে না। তবে লোকসানের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। আগে প্রতি মাসে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান হতো, এখন সেটি অনেক কমে এসেছে।

বিপিসি সরকারের কাছে লোকসানের ১৭ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে চিঠি দিয়েছে। তারা অন্তত এনবিআরের আমদানি শুল্ক অস্থায়ীভাবে মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রতি লিটার তেল আমদানিতে ৩৫ টাকা শুল্ক দিতে হয় এনবিআরকে।

আইএমএফের ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি তেলের দাম নির্ধারণ করে। সর্বশেষ হিসাবে ২১ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেল কেনা পড়েছে ১৫৩ টাকা ২১ পয়সা এবং অকটেন ১৪৪ টাকা ৪৭ পয়সা। এই হিসাবে ১ জুলাই থেকে নতুন দাম ঘোষণা করবে সরকার।

দেশে বর্তমানে তেলের মজুত সন্তোষজনক রয়েছে। ২৪ জুন পর্যন্ত ডিজেলের মজুত ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টন, যা ৪২ দিন চলবে। অকটেন ৩২ দিন, পেট্রোল ২৪ দিন এবং কেরোসিন ৭৬ দিনের মজুত রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ এর মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগ ৯০ দিনের তেলের মজুত করতে উদ্যোগ নিয়েছে।