সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে হাজারো রোগী

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চলমান চিকিৎসক সংকটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ২ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি জনসংখ্যার একমাত্র ভরসাস্থলে ১৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭টি শূন্য পড়ে রয়েছে।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক সংকটের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সংকটে পড়েছে। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা অনিল রায়ের দেওয়া তথ্যমতে, নবাবগঞ্জের ৯টি ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৯ জন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ও সরকারি চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি। কিন্তু দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক সেবাকর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৬টি। তবে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন চিকিৎসক। ফলে সিনিয়র কনসালট্যান্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ৭টি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও শূন্য হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, মাতৃসেবা ও শিশুস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে একদিকে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত অসচ্ছল রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৬টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। খুব শিগগিরই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও শূন্য হতে যাচ্ছে। তীব্র জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসকেরা দিনরাত আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, কয়েক লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন সংকট কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে শূন্য পদগুলো পূরণ করে গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।