সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরান অভিযোগ করেছে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এর জবাবে তেহরান সদ্য পুনরায় চালু হওয়া হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এটি প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে, তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধ্য করতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল।

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় টানা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, কাফর রেমান এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন লেবাননি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া টায়ার জেলার বারাশি গ্রামে হামলায় একই পরিবারের বাবা, মা এবং তাদের দুই সন্তান প্রাণ হারিয়েছেন।

সিডন জেলার কানারিত এলাকায় পৃথক হামলায় আরও সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। ফলে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। তেহরানের মতে, যুদ্ধ বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে লেবাননে নতুন করে রক্তপাত শুরু হওয়ায় আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মূল প্রতিবেদন (Reference): ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ৩২ — Daily Inqilab