তুমুল লড়াইয়ে মরক্কোর নাটকীয় জয়, হাইতিকে হারিয়ে নকআউটে
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। একটি আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধে দুইবার পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ায় মরক্কো। শেষ দিকে বদলি নামা সুফিয়ান রাহিমি ও ইয়াসিনের গোলে জয় পায় গত আসরের সেমি-ফাইনালিস্টরা।
আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতিকে হারিয়েছে। এই জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে গত আসরের সেমি-ফাইনালিস্ট মরক্কো। তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে তারা। অন্য ম্যাচে ব্রাজিল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে হাইতি। দশম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে কেভিনের বাড়ানো নিচু ক্রস সামনের ডিফেন্ডার আটকাতে পারেননি। ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপার ইয়াসিন বোনোও নাগাল পাননি বলের। তার সামনে থাকা লেনি ইয়োসেপের ফ্লিক নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়।
পিছিয়ে পড়া মরক্কো আক্রমণের ধার বাড়ায়। ২৯তম মিনিটে সমতার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়। মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা ক্রস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে নেন হাকিমি। তার শট আটকানোর পর এল কাবির ফিরতি শটও ফিরিয়ে দেন গোলকিপার।
৩৯তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ায় মরক্কো। বাম দিক দিয়ে ডিফেন্ডারদের বাধা এড়িয়ে জোরাল শট নেন ব্রাহিম দিয়াস। গোলকিপার লাফিয়ে ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। গোলমুখে থাকা হাকিমি বল ঠেলে জালে জড়িয়ে বাঁধনহারা উল্লাসে মাতেন। ভিএআর পর্যালোচনায় গোল টিকে যায়।
চার মিনিট পরই হাইতি পাল্টা জবাব দেয়। বক্সের ওপর দুজন তালগোল পাকালে বল পেয়ে যান উইলসন ইসিডোর। দূরপাল্লার দৃষ্টিনন্দন শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মরক্কো আবার সমতা ফেরায়। হাকিমির লং পাস ধরে ডান দিক থেকে বক্সে কাটব্যাক করেন। এক সতীর্থের ডামিতে পেয়ে যান পেছনে থাকা ইসমাইল সাইবারি। নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি খুঁজে নেন জাল।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ধার বাড়ায় মরক্কো। ৭৮তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় তারা। কর্নারের পর বক্সে ভেতরে বল পেয়ে দারুণ সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন আট মিনিট আগে সাইবারির বদলি নামা ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি।
শেষ দিকে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ইয়াসিন। রাহিমির কাটব্যাক থেকে বক্সে ফাঁকায় থাকা এই উইঙ্গার সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন। ভিএআর চেকে গোল টিকে গেলে সতীর্থদের সাথে উদযাপনে মাতে মরক্কো।
এদিকে, আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া হাইতি শেষ ভালো আশায় দারুণ লড়াই করলেও টানা তিন হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটির এই পারফরম্যান্স হতাশাজনক।