সব সংবাদ
জাতীয়

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণ: তরুণের পা বিচ্ছিন্ন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় বুধবার বিকেলে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে স্থানীয় এক যুবকের ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত যুবককে প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় বুধবার বিকেল ৩টার পরে ভয়াবহ এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা শফি আলম (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থল ছিল ঘুমধুম সীমান্ত সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কাশেম রাজার ঢালার মুখে অবস্থিত একটি কলাবাগানের ভেতর। শফি আলম সেই কলাবাগানের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজিবি বিওপির নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে আহত শফি আলমকে উদ্ধার করেন। তাকে কাঁধে করে সীমান্ত সড়কে নিয়ে এসে একটি গাড়িতে করে বাইশফাঁড়ি প্রধান সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

পরে আহত যুবকের মা একটি টমটমে করে তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থলমাইন বিস্ফোরণের বিষয়ে বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় এই মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতিক সময়ে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে। গত ৪ মে একই সীমান্ত এলাকার আশপাশে পৃথক দুটি মাইন বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন।