সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপে গোয়েন্দাগিরি: প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি কৌশলের অংশ

বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ওপর নজর রাখা কোচদের কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। লিডস ইউনাইটেডের কোচ থাকাকালীন মার্সেলো বিয়েলসা প্রতিপক্ষের অনুশীলনে ড্রোন পাঠাতেন। ফিফা কঠোর নিয়ম জারি করলেও অনুশীলন মাঠের পাশের ভবন থেকে নজরদারি ঠেকানো কঠিন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে গোয়েন্দাগিরি এখন আর কোনো গল্পের বিষয় নয়, বরং এটা কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি দলের কোচই চান তাদের প্রতিপক্ষের ছক আগেভাগে জানতে। উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা এই বিষয়ে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। লিডস ইউনাইটেডের কোচ থাকাকালীন তিনি প্রতিপক্ষের অনুশীলন পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করতেন। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের কৌশল না জানলে ম্যাচের প্রস্তুতি অসমাপ্ত থেকে যায়।

অনেক কোচের পরিকল্পনা থাকে প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বুঝে নিজেদের কৌশল সাজানোর। তবে সব কৌশলই ম্যাচের ভিডিওতে ধরা পড়ে না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল থাকে অত্যন্ত গোপনীয়। তাই প্রতিটি দল অনুশীলনের বড় অংশ সম্পন্ন করে ক্লোজড-ডোর বা রুদ্ধদ্বার মাঠে। প্রথম ১০-১৫ মিনিট মিডিয়াকে ক্যামেরা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু আসল কৌশল শুরু হয় ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার পর।

২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কোচ লুই ফন গাল টাইব্রেকারের জন্য গোপন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিখ্যাত ফ্রি-কিক রুটিনও অনুশীলন করা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার মধ্যে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ থেকে সাউদাম্পটনকে এই মৌসুমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে বিয়েলসার কারণে লিডসকেও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল।

বিশ্বকাপে ফিফা আরও কঠোর। অনুশীলন মাঠগুলোকে 'নো ফ্লাই জোন' ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জেল-জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ড্রোন পাওয়া গেলে ১ লাখ ডলার জরিমানা ও ১ বছরের জেল হতে পারে।

তবে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে গোয়েন্দাগিরি আটকানো কঠিন। অনুশীলন মাঠের পাশে উঁচু ভবন থেকে সহজেই নজরদারি করা যায়। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলনের সময় একটি ড্রোন উড়ে গিয়েছিল। মেক্সিকান সেনাবাহিনী সেটি ভূপাতিত করলেও কারা পাঠিয়েছিল, তা জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো অনুশীলনের আগে নিজে পাহাড়ে উঠে পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি বলেছেন, 'আমরা এখন গোয়েন্দাদের যুগে বসবাস করছি।'

মার্কিন মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামসের মতে, নজরদারি কমবেশি সবাই করে। দিন শেষে ফুটবল দুনিয়ায় দুই ধরনের মানুষ—হয় নজরদারি করছে, না হয় নজরদারিতে আছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে কাজে না লাগাতে পারলে এই গোপন কৌশলের কোনো মূল্য নেই।