বাকেরগঞ্জে যৌতুক নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী-শ্বশুরবাড়ি পলাতক
বরিশালের বাকেরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রিমা আক্তার মাহফুজা (৩০) উপজেলার দুধল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের মো. আমজেদ গাজীর মেয়ে। তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে যৌতুকের জন্য রিমা আক্তার মাহফুজা (৩০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রিমা উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরকাঠী গ্রামের মো. আমজেদ গাজীর মেয়ে। প্রায় ১৩ বছর আগে কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামের মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম বাবলুর সঙ্গে রিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং ৬ বছর বয়সী অপর সন্তান আগেই মারা গেছে। নিহতের ভাই কাওসার গাজী জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য রিমার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। পারিবারিকভাবে একাধিকবার মীমাংসা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ২৩ জুন মঙ্গলবার ব্যবসার জন্য বাবার বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা আনার দাবিতে রিমাকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে অমানবিক নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে নির্যাতনের ফলে রিমার মৃত্যু হলে আইনি ঝামেলা এড়াতে তার মুখে কীটনাশক জাতীয় ট্যাবলেট দিয়ে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে রিমার বাবার বাড়ির লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ২৪ জুন বিকেলে বাবার বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। রিমার মৃত্যুর খবর শুনে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিমার ১১ বছর বয়সী কন্যা সন্তান শর্মী আক্তারকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাওসার হোসেন বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আদিল হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়টি শুনেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।