দিল্লি বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ: উপদেষ্টা জাহেদের সফর বাতিল, ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যকে 'সন্তোষজনক' না বলে ঢাকা। উপদেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা 'সন্তোষজনক নয়'। মুখপাত্র আরও বলেন, তথ্য উপদেষ্টা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, এটা আগেই ভারত সরকারকে কূটনৈতিক চ্যানেলে জানানো হয়েছিল। 'তা স্বত্বেও তাকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।' ১৪ জুন সন্ধ্যায় আইওআরএর দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান জাহেদ-উর রহমান। ১৫ ও ১৬ জুনের ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিমানবন্দরে তাঁকে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টিও তারা স্পষ্ট করছিল না। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের খবরে বলা হয়, জাহেদ-উর রহমানকে বেশ কিছু সময় বিমানবন্দরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলেও উপদেষ্টা জাহেদ তাতে সম্মত হননি। পরে তিনি 'অসৌজন্যমূলক আচরণ' এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পরদিন ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। ওই ঘটনার পরদিন ১৫ জুন ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পুরো ঘটনাকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক' বলে বর্ণনা করেছেন। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাহেদ-উর রহমান সার্ক ভিসায় ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে এসেছিলেন এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির ২৮তম সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়, যেটা ছিল বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করা। অবশ্য তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরে গিয়েছিলেন।