সব সংবাদ
ফেনী

ফেনীতে ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার! সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে পালিয়ে গেলেন আলমগীর সিদ্দিকী

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বালু লুটের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জেরে মঙ্গলবার বিকালে একটি রেস্টুরেন্টে ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করায় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের 'ফ্যাসিবাদের দোসর' আখ্যা দেন এবং অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল-মুহুরীগঞ্জ এলাকায় বালু লুট ও ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বিএনপির এক নেতা আলমগীর সিদ্দিকী।

এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়, যা দেখে শুরুতেই উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এরপর লিখিত বক্তব্যে আলমগীর সিদ্দিকী সাংবাদিকদের 'ফ্যাসিবাদের দোসর' আখ্যা দিলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।

সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি কেন তাদের এই আখ্যা দিচ্ছেন, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে অনুসারীদের সহায়তায় তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।

উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তিনি সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদ দিতে পারতেন এবং মামলাও করতে পারতেন। কিন্তু সবাইকে গালমন্দ করা ও 'ফ্যাসিবাদের দোসর' আখ্যা দেওয়া মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না।

এদিকে, ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করার বিষয়ে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হয়েও তার কোনো অফিস নেই এবং দল থেকে অফিস না করার নির্দেশনা থাকলেও কেউ তা মানছে না।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ব্যক্তিগত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। তবে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলে সেটি ভিন্ন কথা।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা আরও জানান, প্রবাস থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা আলমগীর সিদ্দিকী দলের দুঃসময়ে দেশে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে কোনো হামলা-মামলার ঘটনা নেই এবং তার কোনো অপকর্মের দায় বিএনপি নেবে না।

এ বিষয়ে আলমগীর সিদ্দিকীকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।